নৌকার প্রচারণায় চট্টগ্রামে ঢালিউড তারকারা - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

নৌকার প্রচারণায় চট্টগ্রামে ঢালিউড তারকারা


ঢালিউডে বড় কিংবা ছোট পর্দায় অভিনেতা রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিল, সায়মন, জয়, মাহফুজ এবং অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, জ্যোতি, রোকেয়া প্রাচী, তারিন, তানভীন সুইটি, বিজরী বরকতউল্লাহরা অভিনয়ের মধ্য দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অগণিত ভক্তের হৃদয়ে। বেশিরভাগ ভক্তই এসব তারকাদের দেখার সুযোগ পান স্ক্রিনে। তবে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এসব তারকা শিল্পীরা এবার চলে এসেছেন সাধারণ মানুষের কাছাকাছি। রাজধানী ঢাকার পর গতকাল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পৌঁছে সাধারণ মানুষের কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইলেন তাঁরা। এ সময় ‘নৌকার বিজয়’, জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধুর’ স্লোগানে নগরীর অর্ধশতাধিক স্পটে ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিকেলে তাঁরা রাঙ্গুনিয়াতেও প্রচারণা চালান। এর আগে সকালে প্রেস ক্লাব থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তারকা শিল্পীরা।

এ সময় তাদের সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এরপর তারা নগরীর জামালখান প্রেস ক্লাব থেকে শুরু করে চেরাগী পাহাড়, আন্দরকিল্লা, সিরাজউদ্দৌলা রোড, চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, পতেঙ্গা ও ইপিজেডসহ অর্ধশতাধিক স্পটে গণসংযোগ চালান। নির্বাচনী প্রচারণা কাজে ব্যবহৃত ট্রাকে বানানো মঞ্চে চড়ে এ সময় তারা নৌকার পক্ষে ভোট চান। প্রেস ক্লাব চত্বরে প্রচারণাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢালিউড তারকা রিয়াজ বলেন, মায়ের কোলে যেমন শিশু নিরাপদ, তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ। এজন্য শেখ হাসিনার মার্কা, আওয়ামী লীগের মার্কা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মার্কা নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাতে আমরা একঝাঁক শিল্পী চট্টগ্রামে এসেছি।



রিয়াজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ, তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পক্ষের বাংলাদেশ। আমরা চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সেই বাংলাদেশের পক্ষে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুক। অভিনেতা ফেরদৌস বলেন, সারাদেশে জেলায় জেলায়, গ্রামে গ্রামে নৌকার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই স্লোগান-
‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’।
অভিনেতা শাকিল বলেন, বাংলাদেশকে নতুন করে স্বপ্ন দেখানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চাই। যারা নতুন ভোটার আছেন, তাদের প্রত্যেককেই আমরা আহ্বান জানাই, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করুন।
অভিনেতা শাহরিয়ার নাফিজ জয় বলেন, নৌকার কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য আমরা সবাই ঐকবদ্ধ হয়েছি।
অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস বলেন, আমরা দেশের ৯০ শতাংশ শিল্পী নৌকার পক্ষে আছি। জনতাও নৌকার পক্ষে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী হবেন। সুখে দুঃখে তিনি শিল্পীদের পাশে সবসময় দাঁড়িয়েছেন। সমগ্র বাংলাদেশকে তিনি মায়ের মমতা দিয়ে আগলে রেখেছেন। ভবিষ্যতেও সেভাবে আগলে রাখবেন, সেই বিশ্বাস আছে বলেই নৌকায় প্রচারণায় এসেছি আমরা।
অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা হয়েছিল। এই চট্টগ্রামকে বীর প্রসবিণী চট্টগ্রামও বলা হয়। ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের মানুষ নৌকার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানাবে, এই বিশ্বাস আমাদের আছে।
অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, বীর চট্টলায় আসতে পেরে আমরা অনেক খুশি। চট্টগ্রামের উন্নয়নের বেশিরভাগই হয়েছে শেখ হাসিনার আমলে। এ দেশের উন্নয়ন হয়েছে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। এজন্য নৌকায় ভোট দিতে হবে।


অভিনেত্রী তারিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ থেকে মুক্ত করেছেন। আমরা সবাই চাই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাক। আসুন, আমরা সবাই শপথ নিই, ৩০ ডিসেম্বর আমরা সবাই নৌকা মার্কায় ভোট দিব। স্বাধীনতার পক্ষে যে শক্তি আছে, তাদের আমরা ভোট দিব। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করব।
প্রচারণা মঞ্চে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৭০ সালে দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যেভাবে নৌকার পক্ষে রাস্তায় নেমেছিলেন এবারও সেভাবে সবাই নেমেছেন। নৌকার পক্ষে সারাদেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনেও ’৭০ এর পুনরাবৃত্তি হবে।
মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আজ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই দেশে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এজন্য দেশের শিল্পীসমাজ আজ শেখ হাসিনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, এবারো নৌকার জয় হবেই।
আমিনুল ইসলাম জানান, জামালখান থেকে প্রচারণা শুরুর পর নগরীর বিভিন্ন স্পটে শিল্পীরা নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন। এর আগে ঢাকা শহরে প্রচারণা কাজ শেষের পর সড়কপথে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী হয়ে গত বুধবার রাতে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেন শিল্পীরা। পরে ডা. হাছান মাহমুদ ও ব্যারিস্টার নওফেল তারকা শিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে তারকাদের হঠাৎ এমন আগমনের খবরে প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকে মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে তারকরা পৌঁছলে জামালখান এলাকার চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এ সময় সবাই তারকাদের কাছ থেকে দেখার চেষ্টায় হুড়োহড়ি করতে থাকেন। অনেকেই তাদের সাথে দূর থেকেই সেলফি তুলেন। আবার অনেককে কাছ থেকেও সেলফি তুলতে দেখা যায়। জামালখান সড়কে তারকাদের এমন মেলায় জনজটের পাশাপাশি যানজটও লেগে যায়। পরে তারা সেখান থেকে প্রচারণায় বেরিয়ে পড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


এদিকে আমাদের রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গুনিয়ায় তারকারা নির্বাচনী প্রচারণায় আসবেন এমন সংবাদে পুরো রাঙ্গুনিয়া জুড়ে আগে থেকেই চলছিল উৎসবের আমেজ। গতকাল বিকাল থেকেই কাপ্তাই সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অগনিত উৎসুক জনতা। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তারকারা রাঙ্গুনিয়ায় আসেন। এ সময় তারকাদের দেখে অগণিত ভক্তদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস যেন থামানোই যাচ্ছিল না। শুরুতেই ট্রাকে চড়ে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের গোচরা চৌমুহনী বাজারে উৎসুক হাজার হাজার জনতার সামনে বক্তব্য রাখেন অভিনেতা ফেরদৌস ও রিয়াজ। এ সময় ট্রাকে তাঁর পাশে থাকা আইমান সাদিক, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, তারিন, প্রণব সবাই রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদের পক্ষে সাধারণ জনগণের মাঝে প্রচারপত্র বিলি করেন। পরে ভক্তদের ভিড় ঠেলে শিল্পীদের বহনকারী ট্রাকটি ধীরে ধীরে এগুতে শুরু করে। এ সময় রাস্তার দু’ধারে, বাসার ছাদে ও গাছের ডালে সর্বত্র উৎসুক জনতার ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়।
সবার উদ্দেশ্যে তারকারা মাইকে ধারাবাহিকভাবে বার বার নৌকার পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। এভাবে গোচরা চৌমুহনী থেকে জুটমিল, নোয়াগাঁও, গোডাউন, মোহাম্মদপুর, ইছাখালী, ঘাটচেক হয়ে পরে রোয়াজার হাটের রাঙ্গুনিয়া ক্লাব মাঠে এসে সমাবেশ করেন তারা।
এসময় তারকাদের সাথে একই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন খাঁন, সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা এমরুল করিম রাশেদ প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই