লভ্যাংশে পিছিয়ে থাকলেও ব্যাংকের থেকে কয়েকগুণ বেশিতে বীমার শেয়ার দর
আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন!
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের যোগদানের পরেই গেম্বলাররা নড়েচড়ে বসে বীমা খাতের শেয়ারে। তার দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই খাতের শেয়ার দর কয়েকগুণ বেড়েছে কারসাজিতে। তবে এই দর বৃদ্ধি কৃত্রিমভাবে ঘটানো হলেও কমিশনের তাতে রয়েছে নিরব ভূমিকা।
কমিশনের এই নিরব ভূমিকার কারনেই ব্যাংকের থেকে লভ্যাংশে পিছিয়ে থেকেও শেয়ার দরে কয়েকগুণ বেশিতে এখন বীমা খাত। এই বৃদ্ধিতে গেম্বলিংয়ের বিষয়টি প্রমাণসহ গণমাধ্যমে আসলেও কমিশন তাতে কর্ণপাত করেনি। অথচ এই কমিশনই নাকি দায়িত্ব ছেড়ে দিতে রাজি, তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করবে না।
এখনো বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতি মানুষের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ অনাস্থা। এই কোম্পানিগুলোকে অনেকেই প্রতারক হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন নাটকেও এই কোম্পানিতে চাকরী করা মার্কেটিং অফিসারদের দূর্দশা ও তাদেরকে যে কি পরিমাণ হাসির পাত্র হতে হয়, তা তুলে ধরা হয়। কিন্তু সেইসব কোম্পানির শেয়ারই বাড়তে থাকে শিবলী রুবাইয়াতের দায়িত্ব নেওয়ার পরে।
এক্ষেত্রে বর্তমান কমিশনের দিকে অনেকে অভিযোগের তীর রয়েছে। যাদের নির্দেশনা অনুযায়ি সহযোগিতা করছে স্টক এক্সচেঞ্জও।
এর আগে শিবলী রুবাইয়াত সাধারন বীমা কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালন করেছেন। যা গেম্বলারদের মধ্যে বীমায় আগ্রহী করে তোলে। এছাড়া তার বীমা কোম্পানি নিয়ে প্রচারণাও তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি এই খাতের শেয়ার দর বৃদ্ধিতে কমিশনের সহযোগিতা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
এক ব্রোকারেজ হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তা বিজনেস আওয়ারকে বলেন, বীমা কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করতে গেলেই কমিশন থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এমন অসংখ্য চিঠি তার অফিসে রয়েছে। কমিশন কোনভাবেই চায় না বীমার দর পতন হোক। যা পৃথিবীর কোন শেয়ারবাজারে সম্ভব না। যদি না কমিশনের ওই গেম্বলিংয়ে সাপোর্ট না থাকে।
তবে চিঠির বিষয়টি কেউ কেউ ভুল বুঝেছেন বলে দাবি বিএসইসির নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিমের। তিনি বলেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে সোর্স তৈরী করার জন্য কমিশন থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর বাহিরে বীমার শেয়ার বিক্রিতে নিষেধ করে আমার বিভাগ থেকে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি।
গণমাধ্যমে বীমা কোম্পানির শেয়ার নিয়ে আবুল খায়ের হিরুর কারসাজির খতিয়ান তুলে ধরা হলেও দর্শক ভূমিকায় বিএসইসি।
বিএসইসির ন্যায় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও বীমায় গেম্বলারদেরকে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। তারা অন্যসব খাতের শেয়ার অস্বাভাবিক বাড়ার ক্ষেত্রে কারন জানতে চাইলেও বীমায় অনেকটা নিরব। এ নিয়ে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ।
দেখা গেছে, ২০২০ সালের ব্যবসায় ১৫টি ব্যাংক ও ১০টি বীমা কোম্পানির পর্ষদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে ব্যাংকের গড় লভ্যাংশ ঘোষণার পরিমাণ ১৬.৪০ শতাংশ। আর বীমা কোম্পানির গড় ১৪.৫০ শতাংশ।
লভ্যাংশে পিছিয়ে থাকলেও শেয়ার দরে অনেক এগিয়ে গেম্বলিংয়ের সীমা লঙ্ঘনকারী বীমা খাত। বুধবার (২১ এপ্রিল) লেনদেন শেষে লভ্যাংশ ঘোষণা করা ব্যাংকগুলোর গড় শেয়ার দর দাড়িঁয়েছে ২১.৮৫ টাকা। আর বীমা কোম্পানিগুলো রয়েছে ৫৯.৯৩ টাকায়।
বীমার শেয়ারে গেম্বলিং নিয়ে বিনিয়োগকারী থেকে সব স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে হতাশা তৈরী হলেও রেগুলেটরদের মধ্যে তা নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। যা শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদে কাল হয়ে দাড়াঁবে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা বলেন, বিমা খাতের কোম্পানির শেয়ারের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায় কারসাজি ছাড়া এভাবে মূল্যবৃদ্ধির আর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বিমা কোম্পানিগুলো সাধারণত খুবই স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। তাই কারসাজির জন্য কারসাজিকারকেরা এসব কোম্পানি বেছে নেন।
আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন!

কোন মন্তব্য নেই