লবিংয়ের পেছনে লাখো ডলার ব্যয় গুগল-অ্যামাজনের
কংগ্রেসে পেশ করা হিসাবের খাতায় গুগল দেখিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ নাগাদ বিভিন্ন লবিং বা তদবিরের পেছনে ২৭ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা বেড়েছে ৪৯ শতাংশ বেশি। প্যাটেন্ট, কপিরাইট ও ভোক্তা সুরক্ষার মতো ইস্যুগুলোতে লবিং করছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টটি। অনলাইন বিজ্ঞাপনে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত ইস্যুতে কংগ্রেসে লবিং চালানোর বিষয়টিও অবহিত করেছে তারা। গুগলের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা নিষ্পত্তিতে ওই লবিং চালানো হয়েছে। অবশ্য ওই মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে লবিং বা তদবিরের প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা থাকবে না এমন মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় এবং বেশ কয়েকটি রাজ্য গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলছে, সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে নিজেদের শীর্ষস্থানের অপব্যবহার করছে গুগল। টেক্সাসে অপর একটি মামলায় বলা হচ্ছে, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারে প্রতিযোগিতার জায়গা ক্ষুণ্ন করছে অ্যালফাবেট মালিকানাধীন সার্চ ইঞ্জিনটি।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অ্যামাজনের লবিং বাবদ ব্যয় ১১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ ডলার। কোম্পানির নিজস্ব হিসাবের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে লবিং বা লবিং করার বিষয়টি জানিয়েছে সিয়াটলভিত্তিক কোম্পানিটি। এর মধ্যে রয়েছে লজিস্টিকস, ক্লাউড কম্পিউটিং, একটি কমিউনিকেশনস স্যাটেলাইট প্রোগ্রাম।
অনেক বছর ধরে ওয়াশিংটনে কেবল মৃদু উপস্থিতি ছিল অ্যামাজনের। বিক্রি ও ইন্টারনেট কর-সংক্রান্ত ইস্যুতে কেবল ওয়াশিংটনে লবিং করতে দেখা যেত। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার পর দৃশ্যকল্প পাল্টাতে শুরু করে। কোম্পানিটির পাবলিক পলিসি ও কমিউনিকেশনস ইউনিটের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেস সেক্রেটারি জ্যাই কারনিকে। মূলত ওয়াশিংটন লবিকে মোকাবেলা করার জন্য যে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এটা স্পষ্ট।
প্রযুক্তি জায়ান্টদের রাশ টেনে ধরতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ঐকমত্য জোরদার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে লবিংয়ে ব্যয় বাড়িয়েছে গুগল-অ্যামাজন। সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার (মিনোসোটা), মাইক লি (উতাহ), ডেমোক্র্যাটিক চেয়ার ও সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এ খাতের বৃহদাকারে সংস্কার দাবি করেন।
গুগল-অ্যামাজনের লবিং ব্যয় বাড়লেও কমেছে ফেসবুক ও অ্যাপলের। গত প্রান্তিকে ফেসবুকের ব্যয় হয়েছে ৪৮ লাখ ডলার, যা ২০২০ সালের একই প্রান্তিকের চেয়ে ৯ শতাংশ কম। এক্ষেত্রে অ্যাপলের ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের চেয়ে ৩২ শতাংশ কম। ওয়াশিংটনে বেশ চাপের মুখে থাকা ফেসবুক এ ব্যয় হ্রাসের বিষয়ে মন্তব্যে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই