রাজশাহীতে সরগরম ভোটের মাঠ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

রাজশাহীতে সরগরম ভোটের মাঠ

রাজশাহীতে জমে উঠেছে ভোটের প্রচারণা। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন। উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে রাজশাহী সদরসহ জেলার অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায়। রাজশাহীর ছয়টি আসনে মোট প্রার্থী ২৫ জন। সব আসনেই আওয়ামী লীগের জমজমাট প্রচার-প্রচারণা। অন্যদিকে পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করলেও প্রচারে পিছিয়ে নেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরাও।
রাজশাহীর ছয়টি আসনেই চলছে ভোটের জমজমাট প্রচারণা। প্রচারণার শেষ দিকে এসে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জোরেসোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। প্রার্থীদের রাস্তায় চলার পথে ভোট চাওয়া, দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ, এলাকায় এলাকায় ক্ষুদ্র মিছিল, সমাবেশে প্রতিশ্রুতি আর উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা, মাইকিংয়ে গান ও নানা স্লোগানে উৎসবের আমেজে চলছে প্রচারণা। প্রত্যেকটি আসনেই পোস্টার ছিড়ে ফেলা, ভয়-ভীতি দেখানো ইত্যাদি অভিযোগ করলেও প্রচারণা চালাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা।
ভোট উৎসবের আমেজটা রাজশাহী-২ সদর আসনে যেন একটু বেশিই। আসনটিতে মহাজোটের প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা আর বিএনপি প্রার্থী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। বিএনপির কিছু অভিযোগ সত্ত্বেও এই আসনেও জমজমাট প্রচার চলছে।
ফজলে হোসেন বাদশা গত ১০ বছরের উন্নয়ন তুলে ধরে ভোট চাচ্ছেন। মিজানুর রহমানও তাঁর সময়ের উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ মহাজোটের প্রার্থীর সমর্থকেরা তাদের পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলছে। এর বাইরে এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এ আসনটিতে। এছাড়াও সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী বাদশা ও ধানের শীষের মিনুকে কোলাকুলি ও সৌহার্য বিনিময়ও করতে দেখা গেছে। ফলে বলা যায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে সদর আসনটিতে চলছে ভোট উৎসব।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হকের জমজমাট প্রচার চলছে। বিভিন্ন অভিযোগ করলেও প্রচারণা চালাচ্ছিলেন আমিনুল হক। তবে মঙ্গলবার নেতাকর্মীদের আটক, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও বিভিন্ন স্থানে হামলার প্রতিবাদে নির্বাচণী প্রচারণা স্থগিত করেন তিনি। গতকাল ভোটের প্রচার-প্রচারণা স্থগিত করে নির্বাচনী এলাকায় যাননি বলে জানা গেছে।


রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ আয়েন উদ্দিন ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জি. এনামুল হক আর বিএনপির প্রার্থী আবু হেনা, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে এবার আওয়ামী লীগের নতুন মুখ মনসুর রহমান। অপর দিকে বিএনপি এই আসনে প্রার্থী বিড়ম্বনায় পড়েছে। বিএনপির সাবেক সাংসদ নাদিম মোস্তফা ঋণখেলাপি ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে বাছাইয়ে বাদ পড়েছিলেন। এরই মধ্যে বিএনপি নজরুল ইসলামকে এই আসনে তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী বলে ঘোষণা দেয়। এরপর উচ্চ আদালত থেকে নাদিম মোস্তফা আপিল করে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ৯ ডিসেম্বর বিকেলে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে তিনি তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদিকে নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিবাদী করে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ ডিসেম্বর নজরুল ইসলাম তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পান। আগে নাদিম মোস্তফা প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ করছিলেন। গত সোমবার থেকে নজরুল ইসলাম সেই গণসংযোগ শুরু করেছেন।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আর বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ। এই আসনে গত দশ বছরে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগের প্রচার একচেটিয়া। বিএনপির প্রার্থী ২১টি মামলা মাথায় নিয়ে ভোট করছেন। তিনি কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন আসনে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাসদ, বিএলডিপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের।


কোন মন্তব্য নেই