৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই বহাল, পেনশনারদের কর শূন্য
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয়, ৫ শতাংশই প্রযোজ্য হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর দিতে হবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠির মাধ্যমে পাঠিয়েছে এনবিআর।
এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ যদি পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে, তাহলে সেই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে কর ছাড় বহাল
চিঠিতে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিষয়ে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির কোনো নির্দিষ্ট আয়বর্ষে শুধুমাত্র পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ যদি পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে কোনো কর কাটা যাবে না।
বিভ্রান্তি দূর করতে এনবিআরের স্পষ্টীকরণ
দীর্ঘদিন ধরে অনেক সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারী অভিযোগ করে আসছিলেন যে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা বিদ্যমান বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হলে বিষয়টি স্পষ্ট করতে এনবিআর এই নির্দেশনা জারি করে।
৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে কর ১০ শতাংশ
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০৫-এর বরাত দিয়ে এনবিআর জানায়, কোনো ব্যক্তির কোনো একটি আয়বর্ষে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ যদি পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করে, তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো—
-
পরিবার সঞ্চয়পত্র
-
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
-
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
-
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত, আর বাকি তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই