চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের রেডিওথেরাপি সেবা চালুর পর বাড়ছে রোগী - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের রেডিওথেরাপি সেবা চালুর পর বাড়ছে রোগী



চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যান্সার ওয়ার্ডে বহু প্রতিক্ষিত নতুন রেডিওথেরাপি মেশিনের আনুষ্ঠানিক সেবা চালু হয় গত ১৩ নভেম্বর। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় পর পুনরায় রেডিওথেরাপি সেবা পাচ্ছেন চট্টগ্রামের ক্যান্সার রোগীরা। এ সেবা চালুর পর থেকে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে ক্যান্সার ওয়ার্ডে। রোগীর এ বাড়তি চাপ সামলাতে যেন ত্রাহি অবস্থা ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের। ফলে নতুন করে আরো ১২টি শয্যা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যান্সার ওয়ার্ড। আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রেডিওথেরাপি বিভাগের (ক্যান্সার ওয়ার্ড) প্রধান ডা. সাজ্জাদ মোহাম্মদ ইউসুফ।


ক্যান্সার ওয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২৪টি শয্যা রয়েছে ওয়ার্ডে। এর মধ্যে ১২টি শয্যা পুরুষ এবং বাকি ১২টি শয্যা মহিলা রোগীদের জন্য সংরক্ষিত। এখন নতুন ১২টি শয্যার মধ্যে পুরুষ ও মহিলা রোগীদের জন্য ৬টি করে শয্যা যুক্ত করা হবে। নতুন ১২টি শয্যা যুক্ত হলে ওয়ার্ডের মোট শয্যা সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৬টি। যার অর্ধেক পুরুষ এবং বাকি অর্ধেক মহিলা রোগীদের জন্য। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যেই নতুন ১২টি শয্যা যুক্ত করার সব প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিভাগীয় প্রধান ডা. সাজ্জাদ মোহাম্মদ ইউসুফ। এর মাধ্যমে অন্তত আরো কিছু সংখ্যক ক্যান্সার রোগী ওয়ার্ডে ভর্তি থেকে কম খরচে সরকারি চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে জানান এ চিকিৎসক।
ওয়ার্ড সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে ২৪ শয্যার ক্যান্সার ওয়ার্ডে ৫ জন কনসালটেন্ট সহ মোট চিকিৎসক রয়েছেন ১২ জন। এছাড়া নার্স রয়েছেন ১৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসক-নার্সের কোনো ঘাটতি না থাকলেও নতুন করে ১২টি শয্যা যুক্ত হলে চিকিৎসক-নার্সের পাশাপাশি কিছু সংখ্যক কর্মচারীর প্রয়োজন হবে বলে জানান ওয়ার্ড সংশ্লিষ্টরা। এতদিন ধরে ওয়ার্ডের আউটডোরে (বহির্বিভাগে) চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল দৈনিক ৬০ থেকে ৭০ জন।


কিন্তু নতুন রেডিওথেরাপি মেশিনের সেবা চালুর পর থেকে আউটডোরে সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ জনে। এছাড়া দৈনিক কম হলেও প্রায় ৭০ জন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী রেডিওথেরাপি সেবা পাচ্ছেন এ ওয়ার্ডে। এ তথ্য নিশ্চিত করে রেডিওথেরাপি সেবা চালুর পর আগের তুলনায় আউটডোরে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যান্সার ওয়ার্ডের আবাসিক সার্জন ডা. আলী আসগর চৌধুরী। ব্যতিক্রম নয় ইনডোরের (আন্তঃবিভাগ) চিত্রও।
বর্তমানে ২৪ শয্যার ইনডোরে অন্তত ৩৬ থেকে ৩৮ রোগীকে ভর্তি রাখতে হয় জানিয়ে ডা. আলী আসগর চৌধুরী বলেন, ভর্তি থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার মতো রোগীর চাপ খুব বেশি। কিন্তু শয্যার অভাবে খুব বেশি জটিল রোগীদেরই ভর্তি রাখতে হয়। সব রোগীকে ভর্তি রাখার মতো শয্যাসহ পর্যাপ্ত আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা আমাদের নেই। তবে নতুন করে ১২টি শয্যা যুক্ত হলে আরো কিছু সংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে বেসরকারি ভাবে ব্যয়বহুল ক্যান্সার চিকিৎসা গরীব-অসহায় রোগীরা এখানে স্বল্পমূল্যে পাবেন বলে উল্লেখ করেন বিভাগীয় প্রধান ডা. সাজ্জাদ মোহাম্মদ ইউসুফ।


ক্যান্সার ওয়ার্ডের এই দুই চিকিৎসক বলছেন, মানুষের জীবন-যাপনের অভ্যাস বা লাইফস্টাইলের কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি দিনদিন বাড়ছে। এই ব্যাধি থেকে বাঁচতে হলে এখনই সচেতন হতে হবে। অবশ্য, আগের তুলনায় মানুষের মাঝে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। যার কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। আগে অনেকেই ঝাড়-ফুঁক কিংবা বৈদ্য-তাবিজ করে কালক্ষেপণ করতেন। আর ডাক্তারের কাছে আসতেন শেষ পর্যায়ে। এখন পরিস্থিতি অনেকটা বদলেছে। আগে দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিলেও এখন প্রতিদিন প্রায় দেড়শ রোগী সেবা নেন। তবে ক্যান্সার নিয়ে মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন এ চিকিৎসকদ্বয়।

কোন মন্তব্য নেই